আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ফিলিস্তিনের সুপ্রিম ইসলামী ফতোয়া কাউন্সিল এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি কেনেসেটে উত্থাপিত মসজিদ থেকে আযান প্রচার সীমিত করার বিলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
কাউন্সিল বিবৃতিতে এই বিলকে “জাতিগতভাবে বৈষম্যমূলক এবং ঐশী আইন, নিয়ম-কানুন ও বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক” আখ্যা দিয়ে বলেছে, দখলদারদের এই পদক্ষেপ সাধারণভাবে মসজিদ এবং বিশেষ করে মসজিদুল আকসা ও মসজিদে ইব্রাহিমীকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে।
এটি দখলদার শাসকগোষ্ঠীর দমননীতি এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে স্পষ্ট হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে একটি নতুন অপরাধ।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে: “মসজিদের মিনার থেকে উচ্চারিত আযানের আওয়াজ নিভবে না – দখলদার কর্তৃপক্ষ যতই প্রচেষ্টা, জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করুক।”
কাউন্সিল আরও বলেছে, আযান ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত এবং ইসলামের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান – দখলদাররা যেভাবে চিত্রিত করছে তেমন নয়। তাদের এই চিন্তাধারা বিপথগামী ও বৃথা; এটি ইসলামের ইতিহাস মুছে ফেলা এবং অঞ্চলের উপর জাল ইহুদি চরিত্র চাপিয়ে দেওয়ার আগ্রাসী প্রচেষ্টার অংশ।
কাউন্সিল সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের নীতি পুরো অঞ্চলে “ধর্মীয় যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে”।
সুপ্রিম ফতোয়া কাউন্সিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মসজিদগুলোর উপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মুসলমানদের ইবাদত ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ রোধে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করা হয় – কারণ এটি ফিলিস্তিন ও বিশ্বের মুসলমানদের জন্য একটি ধর্মীয়ভাবে সুরক্ষিত অধিকার।
গত বছর বেন-গভির ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন, ১৯৪৮ সালে অধিকৃত ফিলিস্তিনি শহরগুলোর মসজিদে আযানের জন্য ব্যবহৃত লাউডস্পিকার জব্দ করা শুরু করা হয় – দাবি করে যে, “তাদের নামাজ বসতি স্থাপনকারীদের জন্য উপদ্রব সৃষ্টি করে”। হিব্রু মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, লাউডস্পিকার জব্দ করা সম্ভব না হলে জরিমানা আরোপেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অধিকৃত ভূখণ্ডে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকরা বেন-গভিরের এই প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়েছেন এবং আযানকে “শব্দদূষণ” বলে উল্লেখ করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই আইন ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় মুছে ফেলার আরেকটি প্রচেষ্টা।
Your Comment